পরিচালকমণ্ডলী/বরিষ্ঠ পরিচালকবর্গের আচরণ বিধি

প্রস্তাবনা :

সকল পরিচালক এবং বরিষ্ঠ পরিচালকবর্গ তাদের উপর ন্যস্ত ক্ষমতার সীমার মধ্যে থেকে কাজ করবেন এবং কোম্পানি ও তার শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থের পক্ষে সবচেয়ে উপযোগী বিদিত সিদ্ধান্ত ও নীতি গঠন ও প্রয়োগ করার দায়িত্ব পালন করবেন।.

কোম্পানির জন্য যে উচ্চ মান রক্ষা করা প্রয়োজন সেটার নিরিখে পরিচালকমণ্ডলীর সমস্ত কার্যকলাপে নিম্নলিখিত নিয়ম/আচরণবিধি পালন করতে হবে। কোম্পানি এই বিধির জন্য একজন প্রতিপালন আধিকারিক নিযুক্ত করবে যিনি পরিচালক এবং বরিষ্ঠ পরিচালকবর্গের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য এবং তাদের বিধি পালনে সাহায্য করার জন্য উপস্থিত থাকবেন।

1. সততা এবং ন্যায় পরায়ণতা:

সকল পরিচালক এবং বরিষ্ঠ পরিচালকবর্গ কোম্পানির হয়ে এবং ব্যক্তিগত ভাবে তাদের সমস্ত কার্যকলাপ সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং ন্যায্যতার সঙ্গে পরিচালনা করবেন। সকল পরিচালক এবং বরিষ্ঠ পরিচালকবর্গ বিশ্বাস, দায়িত্ব, যথাযথ সাবধানতা, দক্ষতা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে কোন ভাবে বিভ্রান্ত হতে না দিয়ে দায়িত্বপালন করবেন। পরিচালক এবং বরিষ্ঠ পরিচালকবর্গ কোম্পানির সর্বোত্তম স্বার্থে কাজ করবেন এবং তাদের উপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

2. স্বার্থের বিরোধ:

কোম্পানির বোর্ডে উপস্থিত পরিচালকগণ এবং বরিষ্ঠ পরিচালকবর্গ এমন কোন ব্যবসা, সম্পর্ক বা কার্যকলাপে লিপ্ত হবেন না যা কোম্পানি বা দলের স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে।

বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিরোধের উৎপত্তি হতে পারে। সমস্ত সম্ভাব্য বিরোধের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা সম্ভব নয় এবং মাঝে মাঝে সঠিক ও অনুচিত কার্যকলাপের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারা সহজ হবে না। নীচে কিছু সাধারণ পরিস্থিতির উল্লেখ করা হল যা প্রকৃত এবং সম্ভাব্য স্বার্থের বিরোধ সৃষ্টি করতে পারে:

  • পরিচালক এবং বরিষ্ঠ পরিচালকবর্গ এমন কোন কার্যকলাপ/নিযুক্তিতে লিপ্ত হবেন না যা কোম্পানির প্রতি তাদের কর্মদক্ষতা বা দায়িত্বকে প্রভাবিত করতে পারে বা অন্য কোন ভাবে কোম্পানির বিরোধী বা কোম্পানির পক্ষে হানিকর।
  • পরিচালক এবং বরিষ্ঠ পরিচালকবর্গ এবং তাদের পরিবারের কোন কোম্পানি, গ্রাহক, সরবরাহকারী, ডেভেলপার বা প্রতিযোগী কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা উচিৎ নয় এবং সাধারণ ভাবে এমন বিনিয়োগ করা উচিৎ নয় যা কোম্পানির প্রতি তাদের দায়িত্বের পরিপন্থী হয়।
  • পরিচালক এবং বরিষ্ঠ পরিচালকবর্গ কোন আত্মীয়র সঙ্গে বা এমন কোন প্রতিষ্ঠান/কোম্পানি যেখানে ওনার সম্পর্কিত ব্যক্তি বা আত্মীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন তার সঙ্গে কোম্পানির হয়ে বাণিজ্যিক লেনদেন করবেন না।

যদি এমন সম্পর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে লেনদেন করা এড়ানো না যায় তাহলে সেই সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য কোম্পানির বোর্ড অথবা মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিককে জানাতে হবে।

3. প্রতিপালন:

পরিচালক এবং বরিষ্ঠ পরিচালকবর্গ সমস্ত প্রযোজ্য আইন, নিয়ম এবং অধিনিয়ম আক্ষরিক ভাবে এবং উদ্দেশ্যগত ভাবে পালন করবেন। কোম্পানিকে আইনানুগ ও নৈতিক আচরণ প্রবর্তনে সাহায্য করার জন্য পরিচালক এবং বরিষ্ঠ পরিচালকবর্গের সকল সম্ভাব্য আইন, নিয়ম, অধিনিয়ম এবং আচরণ বিধির লঙ্ঘন কোম্পানি সেক্রেটারিকে জানানো উচিৎ।

4. অন্য পরিচালন দায়িত্ব:

কোম্পানি মনে করে যে অন্য কোন কোম্পানির পরিচালকমণ্ডলীতে দায়িত্ব পালন সম্ভাব্য স্বার্থের বিরোধের জন্য যথেষ্ট চিন্তার কারণ পারে, আর তাই প্রত্যেক পরিচালকের উচিৎ প্রতি বছর বোর্ডের কাছে এমন সম্পর্ক সম্বন্ধে জানানো/প্রকাশ করা। মনে করা হয় যে কোন প্রত্যক্ষ প্রতিযোগীর বোর্ডে নিযুক্ত থাকা কোম্পানির স্বার্থের অনুকূল নয়।

5. তথ্যের গোপনীয়তা:

যদি কোন পরিচালকের আওতায় বা অধিকারে কোম্পানির ব্যবসা, এর গ্রাহক, সরবরাহকারী ইত্যাদি সংক্রান্ত কোন তথ্য থাকে যা সার্বজনিক রূপে প্রকাশিত হয়নি, তাহলে সেই সকল তথ্য গোপনীয় হিসাবে গণ্য করতে হবে এবং গোপন রাখতে হবে, যদি না তাকে উন্মোচনের অনুমতি দেওয়া হয় অথবা আইনগত কোন কারণে আবশ্যিক হয়। কোন পরিচালক এবং বরিষ্ঠ পরিচালকবর্গ অনুমোদন ছাড়া কোন তথ্য আনুষ্ঠানিক বা অনৈয়মিক ভাবে সংবাদপত্র বা অন্য কোন গণ মাধ্যমের কাছে প্রকাশ করবেন না।

6.গোপন তথ্য ব্যবহার করে লেনদেন:

কোম্পানির কোন পরিচালক বা বরিষ্ঠ পরিচালকবর্গ তাদের আওতায় বা অধিকারে থাকা কোম্পানি সম্পর্কিত কোন তথ্য যা সার্বজনিক রূপে প্রকাশিত হয়নি আর তাই গোপনীয় তথ্য রূপে গণ্য করা হয় ব্যবহার করে নিজে লাভ অর্জন করবেন না বা বিনিয়োগের পরামর্শ দান করে অন্য কারোকে লাভ অর্জন করতে সাহায্য করবেন না। সকল পরিচালক এসইবিআই দ্বারা প্রদত্ত ইনসাইডার ট্রেডিং সংক্রান্ত নির্দেশাবলী পালন করবেন।

7. উপহার ও দান:

কোম্পানির কোন পরিচালক অথবা বরিষ্ঠ পরিচালকবর্গ এমন কোন উপহার, দান, পারিতোষিক, আতিথেয়তা, অবৈধ অর্থ প্রদান এবং তুলনীয় সুযোগ সুবিধা গ্রহণ বা প্রদান করবেন না যার উদ্দেশ্য হল (অথবা উদ্দেশ্য মনে হতে পারে) ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক আনুকূল্য (বা অপ্রতিযোগিতামূলক) বা সিদ্ধান্ত লাভ। বিশেষ অনুষ্ঠানে স্মারক সদৃশ সামান্য উপহার গ্রহণ করা এবং বোর্ডকে সূচিত করা যেতে পারে।

8. সম্পত্তির সুরক্ষা:

পরিচালক এবং বরিষ্ঠ পরিচালকবর্গ কোম্পানির সম্পত্তি, কর্মী এবং তথ্য সুরক্ষিত রাখবেন এবং ব্যক্তিগত কাজের জন্য বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া সেগুলি ব্যবহার করবেন না।

9. গ্রাহক সম্পর্ক:

পরিচালক এবং বরিষ্ঠ পরিচালকবর্গ এমন আচরণ করবেন যা গ্রাহকদের জন্য লাভজনক এবং তাদের সঙ্গে আস্থামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে। যদি কাজের জন্য তাদের কোন গ্রাহক বা সম্ভাব্য গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয় তাহলে তারা কোম্পানির প্রতিনিধির যোগ্য আচরণ করবেন।

10. সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক:

কোম্পানির নীতি হল সরকারী কর্মচারী এবং সরকারী আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং লেনদেন করার সময় সেই সংক্রান্ত সকল প্রযোজ্য আইন এবং অধিনিয়মের সম্পূর্ণ পালন করা হবে এবং ব্যবসায়িক আচরণের ক্ষেত্রে উন্নত নৈতিক, নীতিগত এবং আইনি মানদণ্ড মেনে চলা হবে। সকল প্রকার কেন্দ্রীয়, স্থানীয়, রাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রীয়, বৈদেশিক এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আইন, নিয়ম এবং অধিনিয়ম এই নীতির অন্তর্ভুক্ত।

11. পর্যাবৃত্ত পর্যালোচনা:

প্রতি বছরে একবার বা এই বিধি পরিবর্তন করা হলে প্রত্যেক পরিচালক এবং বরিষ্ঠ পরিচালকবর্গকে এই বিধির স্বীকৃতি প্রদান এবং বিধি বুঝতে পারার এবং মেনে চলার চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। নতুন পরিচালকদের ক্ষেত্রে তারা যখন পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তখন এবং বরিষ্ঠ পরিচালকবর্গের ক্ষেত্রে তারা যখন কর্মে নিযুক্ত হবেন তখন তাদের এই চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে।

12. অব্যাহতি:

কোম্পানির বোর্ডের কোন সদস্য বা কার্যনির্বাহী আধিকারিককে এই বাণিজ্যিক আচরণ বিধি ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে কোন প্রকার অব্যাহতি প্রদান করা হলে সেটা কোম্পানির পরিচালকমণ্ডলী দ্বারা লিখিত রূপে অনুমোদিত হতে হবে এবং তৎক্ষণাৎ ঘোষণা করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*
*
Website