খাদ্য, পোশাক এবং শিক্ষা এই তিনটি সহ বাসস্থান মানুষের প্রাথমিক চাহিদা গুলির একটি। মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার একটি মূল উপাদান এবং মানদণ্ড হল আবাসন। এটিকে নীতি প্রবর্তন ও হস্তক্ষেপের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র রূপে গণ্য করা হয়। দীর্ঘ দিন ধরে সামাজিক চাহিদা রূপে বাসস্থানের প্রাসঙ্গিকতা স্বীকৃতি লাভ করেছে এবং সেই প্রস্তর যুগ থেকে মানব উদ্ভাবন এবং আবিষ্কারকে এটি প্রভাবিত করে এসেছে।

মানবজাতির এক অপরিহার্য চাহিদা হওয়ার ফলে জনসংখ্যার বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার মানের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বাসস্থানের চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে আর তাই গৃহ ক্রয়ের জন্য অর্থ সংস্থানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। আবাসন ক্ষেত্রের গুরুত্ব কতখানি সেটা জানা যায় যখন আমরা গৃহকে সবচেয়ে ভাল বিনিয়োগ রূপে গণ্য করি এবং আমাদের কষ্টার্জিত টাকা বা সঞ্চয় গৃহে বিনিয়োগ করতে চাই। গৃহ ক্রয় করার জন্য অর্থ সংস্থানের চাহিদা গৃহের অর্থ সংস্থানের জন্য বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে হাউজিং ফিন্যান্স কোম্পানি (এইচএফসি) নামে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানগুলি গত কয়েক বছরে আবাসন ক্ষেত্রের বিকাশের জন্য ঋণ দেওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। একমাত্র আবাসন ক্ষেত্রে ঋণ প্রদানে দক্ষতার মধ্যেই তাদের শক্তি নিহিত আছে। আর এটাই জিআইসি হাউজিং ফিন্যান্স লিমিটেড(জিআইসিএইচএফএল)-এর প্রেক্ষাপট।

জিআইসি হাউজিং ফিন্যান্স লিমিটেড 1989 সালের 12ই ডিসেম্বর ‘জিআইসি গৃহ ভিত্তা লিমিটেড’ রূপে নিগমবদ্ধ করা হয়েছিল। নিগমবদ্ধকরণের একটি নতুন শংসাপত্রের অধীনে 1993 সালের 16ই নভেম্বর নাম পরিবর্তন করে অধুনা নাম রাখা হয়। এই প্রতিষ্ঠান গঠনের উদ্দেশ্য ছিল ভারতে আবাসন সংক্রান্ত কার্যকলাপ তরান্বিত করার জন্য ব্যক্তি ও অন্যান্য কর্পোরেটদের সরাসরি ঋণ দানের ক্ষেত্রে প্রবেশ করা। জিআইসিএইচএফএল-এর প্রাথমিক ব্যবসা হল ব্যক্তিদের এবং বসবাসের উদ্দেশ্যে নির্মিত বারি/ফ্ল্যাটের নির্মাণ কার্যে যুক্ত ব্যক্তি/সত্তাদের গৃহ ঋণ দান করা। ভারতে আবাসন ক্ষেত্রের ভবিষ্যতকে ঘিরে এই প্রতিষ্ঠানের একটা দর্শন আছে। এবং জিআইসিএইচএফএল-এ বিশ্বাস করা হয় যে এর সাফল্য এবং উন্নতি নিম্নলিখিত নীতির উপর নির্ভরশীল:

  • একটি পরিষেবা কেন্দ্রিক পরিবেশে গ্রাহক অনুকূল ফিন্যান্স স্কিমের মাধ্যমে আবাসন কার্যকলাপের উন্নয়নে এক বিশিষ্ট কর্পোরেট নাগরিক হয়ে ওঠা।
  • প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে এক বিশিষ্ট কর্পোরেট নাগরিকের নৈতিক আদর্শ প্রতিফলিত করে শক্তি বৃদ্ধি করা এবং বিকশিত হওয়া।
  • সম্পদের সৃষ্টি করা এবং শেয়ারহোল্ডারদের পুরস্কৃত করা

জেনারেল ইন্সিওরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া এই কোম্পানির পৃষ্ঠপোষকতা করেছে এবং এর তদানীন্তন সহযোগী সংস্থা যেমন ন্যাশনাল ইনসিওরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, দি নিউ ইন্ডিয়া অ্যাসুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, দি ওরিয়েন্টাল ইনসিওরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এবং ইউনাইটেড ইন্ডিয়া ইনসিওরেন্স কোম্পানি লিমিটেড একত্রে ইউটিআই, আইসিআইসিআই, আইএফসিআই, এইচডিএফসি এবং এসবিআই-এর সঙ্গে মিলিত হয়ে এর প্রারম্ভিক শেয়ার ক্যাপিটালের জন্য অর্থ প্রদান করেছিল।

জিআইসিএইচএফএল-এর দেশ জুড়ে 53টি বাণিজ্য শাখা আছে। এর একটি শক্তিশালী বিপণন দল আছে যাদের সেলস অ্যাসোসিয়েটস (এসএ) সহায়তা প্রদান করে। এটি ব্যক্তিদের ঋণ দানের জন্য বিল্ডারদের সঙ্গে অংশীদারি করেছে। এছাড়া অন্যান্য আবাসনের অর্থ সংস্থান সংক্রান্ত চাহিদা পূরণের জন্য এটি বিভিন্ন কর্পোরেটদের সঙ্গে অংশীদারিতে লিপ্ত আছে।

প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
বছর ঘটনা
1989 কোম্পানি “জিআইসি গৃহ ভিত্তা লিমিটেড” নামে নিগমবদ্ধ করা হয়েছিল।
1989-91 কোম্পানি 8 টি জায়গা থেকে তার ক্রিয়াপ্রণালী শুরু করে।
1991-92 কোম্পানি কর্মী এবং বিল্ডার প্রকল্প হাউজিং স্কিম শুরু করে।
1992-93 কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে “জিআইসি হাউজিং ফিন্যান্স লিমিটেড” রাখা হয়। কোম্পানি আপনা ঘর যোজনা চালু করে।
1993-94 কোম্পানি 1:1 এর একটি রাইটস ইস্যু তৈরি করে; পুঁজি 10 কোটি টাকা অতিক্রম করে।
1994-95 কোম্পানি এর প্রথম আইপিও গঠন করে এবং আরও 40 কোটি টাকার পুঁজি বিনিয়োগ করে।
1996-97 কোম্পানি এর কর্ম প্রণালী কম্পিউটার দ্বারা পরিচালনার প্রক্রিয়া শুরু করে।
2003-04 কোম্পানি ঋণ অনুমোদন, বণ্টন এবং লাভের দিক থেকে এই ক্ষেত্রের বিকাশের হারের চেয়ে বেশি প্রায় 40% বিকাশ হার রেকর্ড করে। এর ফল স্বরূপ কোম্পানি ব্যক্তিগত গৃহ ঋণের ক্ষেত্রে বার্ষিক 500 কোটি টাকার বেশি বার্ষিক বাণিজ্য করেছে এবং এর পোর্টফলিও 1000 কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
2004-05 কোম্পানি ঋণ অনুমোদন, বণ্টন এবং লাভের দিক থেকে এই ক্ষেত্রের বিকাশের হারের চেয়ে বেশি প্রায় 40% বিকাশ হার রেকর্ড করে। রাইটস ইস্যুর সংখ্যা 89,75,561, 16 টাকায় ইকুইটি শেয়ার যার অনুপাত 2 টি শেয়ার প্রতি 1টি ইক্যুইটি শেয়ার। প্রদান করা পুঁজির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে 26.93 কোটি টাকা হয়।
2005-06 এনপিএ-র একত্রীকরণ এবং লাভের প্রতি মনোনিবেশ
2006-07 রাইটস ইস্যু  - শেয়ার প্রতি নগদ 10 টাকা অভিহিত মূল্যের 2,69,25,533 টি ইক্যুইটি শেয়ার, শেয়ার প্রতি 30 টাকা প্রিমিয়ামে, মোট 107,70,21,320 টাকার শেয়ার অধিকারের ভিত্তিতে 2006 সালের 19 শে মে 1 টি ইক্যুইটি শেয়ার প্রতি 1টি ইক্যুইটি শেয়ার অনুপাতে কোম্পানির ইক্যুইটি শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। রাইটস ইস্যুর পরে কোম্পানির শেয়ার করা পুঁজির পরিমাণ 26.93 কোটি টাকা এবং শেয়ারের প্রিমিয়াম 80.78 কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে । 2007 সালের 31শে মার্চ পর্যন্ত প্রদত্ত পুঁজির পরিমাণ 53.86 কোটি টাকা।আগের বছর যে বিবৃত লভ্যাংশ 15% ছিল সেটা বৃদ্ধি পেয়ে এই বছরে 30% হয়।এই বছর কোম্পানি মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ের পশ্চিমের শহরতলি ভিরারে নতুন শাখার উদ্বোধন করে।
2007-08 এই বছর ব্যক্তিগত ঋণের পোর্টফলিও 2000 কোটি টাকা অতিক্রম করে এবং 2008 সালের 31শে মার্চ পর্যন্ত এর পরিমাণ হয় 2427.35 কোটি টাকা।
2008-09 এই বছর ব্যক্তিগত ঋণের পোর্টফলিও 2500 কোটি টাকা অতিক্রম করে এবং 2009 সালের 31শে মার্চ পর্যন্ত এর পরিমাণ হয় 2682 কোটি টাকা।
2009-10 এই বছর কোম্পানি গুজরাটে ভদোদরায় এর প্রথম শাখা উদ্বোধন করে এবং নাগপুর ও নাসিকে শাখা খোলার মাধ্যমে মহারাষ্ট্রে এর বিস্তার বৃদ্ধি করে।একটি জীবন বিমা কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারি করে যোগ্য ঋণ গ্রহীতাদের জন্য বকেয়া ঋণের পরিমাণ পর্যন্ত ঐচ্ছিক গ্রুপ লাইফ ইনসিওরেন্স আচ্ছাদনের সুবিধা চালু করে।
2010-11 এই বছরে ব্যক্তিগত অনুমোদিত ঋণের পরিমাণ 1000 কোটি টাকা অতিক্রম করে। ব্যক্তিগত ঋণ পোর্টফলিও 3000 কোটি টাকা অতিক্রম করে এবং 2011 সালের 31শে মার্চ পর্যন্ত এর পরিমাণ হয় 3406 কোটি টাকা।এককালীন 10% বিশেষ লভ্যাংশ সহ বিবৃত লভ্যাংশ হয় 55% ।রাজস্থানে দ্বিতীয় শাখা যোধপুরে এবং পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় শাখা দুর্গাপুরে উদ্বোধন করে এবং কোলাপুরে শাখা খোলার মাধ্যমে মহারাষ্ট্রে বিস্তার বৃদ্ধি করে।
2011-12 এই বছরে বণ্টিত ব্যক্তিগত ঋণের পরিমাণ কোটি টাকা অতিক্রম করে এই বছর চলাকালীন এর পরিমাণ হয় কোটি টাকা। ব্যক্তিগত ঋণ পোর্টফলিও 3500 কোটি টাকা অতিক্রম করে এবং 2012 সালের 31শে মার্চ পর্যন্ত এর পরিমাণ হয় 3864 কোটি টাকা।মুম্বাইয়ের শহরতলি নেরে প্যানভেলে নতুন শাখা উদ্বোধনের মাধ্যমে মহারাষ্ট্রে বাণিজ্য সম্প্রসারণ বৃদ্ধি করে।
2012-13 কোম্পানি মধ্যপ্রদেশে তার প্রথম শাখা খোলে ইন্দোরে।
2013-14 কোম্পানি আহমেদাবাদে তার 43তম শাখার উদ্বোধন করে।
2013-14 কোম্পানি আহমেদাবাদে তার 44তম শাখার উদ্বোধন করে।
2013-14 কোম্পানি কল্যানে তার 45তম শাখার উদ্বোধন করে।
2013-14 কোম্পানি বোরিভালিতে তার 46তম শাখার উদ্বোধন করে।
2013-14 কোম্পানি দেরাদুনে তার 47তম শাখার উদ্বোধন করে।
2014-15 কোম্পানি মিরাট তার 48 তম শাখার উদ্বোধন .
2014-15 কোম্পানি বোইসারে তার 49তম শাখা খুলেছে।
2014-15 কোম্পানি গাজিয়াবাদে তার 50তম শাখা খুলেছে।
2014-15 কোম্পানি মারগোয়ায় তার 51তম শাখা খুলেছে।
2014-15 কোম্পানি দ্বারকাতে তার 52তম শাখা খুলেছে।
2014-15 কোম্পানি এই বছর রৌপ্য জয়ন্তী বার্ষিকী উদযাপন করল।